সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের বৈরামপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ার-ভাটার অব্যাহত ক্ষয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট চর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সড়ক থেকে নদীর দূরত্ব কোথাও কোথাও মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বেড়িবাঁধ ভেঙে কাদাকাটি, কুল্যা ও দরগাপুর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী তালা উপজেলার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেতনা নদীর এই বেড়িবাঁধটি কার্পেটিং করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এর উত্তর প্রান্তে কুল্যা ইউনিয়নের গুনাকরকাটি সেতু এবং দক্ষিণ প্রান্তে কাদাকাটি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া বাজার। কয়েক মাস ধরে নদীভাঙনে চর ধসে ধসে সড়কের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে।
বৈরামপুর জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ইমাম মাওলানা মো. আব্দুল কুদ্দুস জানান, নদীর চরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীর ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। আর কয়েক ফুট ভাঙলেই পিচঢালা সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়বে।
তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, কাদাকাটি, কুল্যা ও দরগাপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা মাছের ঘের, কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শুধু আশাশুনির তিন ইউনিয়ন নয়, তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “সড়ক থেকে মাত্র ৬-৭ ফুট দূরে ভাঙন চলে এসেছে। ভাঙনের গভীরতাও অনেক বেশি। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ভাঙনস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে একজন সার্ভেয়ার এসে পরিমাপও করেন। তবে এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাজকিয়া বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।”
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, “নদীভাঙনের বিষয়টি শুনেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণের আগেই জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
