সাতক্ষীরায় দেড় লাখ ম্যাচের কাঠি ও রেশমি সুতায় তৈরি হচ্ছে ব্যতিক্রমী দুর্গা

শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে যখন সাতক্ষীরাজুড়ে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, ঠিক তখনই সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুরের শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মণ্ডপে তৈরি হচ্ছে এক ব্যতিক্রমী দুর্গা প্রতিমা। দেড় লাখের বেশি ম্যাচের কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে নির্মিত এই প্রতিমা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শরতের সাদা কাশফুল আর উৎসবের আগমনী বার্তার মধ্যেই মণ্ডপটিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে শিল্পীদের নিখুঁত কারুকাজ। মাটির অবয়বের ওপর একে একে বসানো হচ্ছে দেড় লাখের বেশি ম্যাচের কাঠি, আর তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রেশমি সুতার সূক্ষ্ম নকশা। চারজন শিল্পী কয়েক মাস ধরে এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরিতে কাজ করছেন।
প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার বলেন, ভারতে ম্যাচের কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কৌশল শিখেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রতিমা তৈরি করছেন।
ব্রহ্মরাজপু পূজা উদযাপন কমিটির সহ-ক্যাশিয়ার অমিত ঘোষ জানান, গত বছর ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল, যা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এসেছিলেন। এবার আরও নতুনত্ব আনতে ম্যাচের কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছেন আয়োজকরা।
ব্রহ্মরাজপু পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ম্যাচের কাঠির দাহ্যতা নিয়ে শঙ্কা থাকায় বিশেষ কেমিক্যাল ব্যবহার করে ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমিটির উপদেষ্টা কানাই লাল কানু সাহা বলেন, দেড় লাখের বেশি ম্যাচের কাঠি দিয়ে তৈরি এই প্রতিমা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রহ্মরাজপুরে নির্মিত হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। ফলে এবার দূর-দূরান্ত থেকে আরও বেশি ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সাতক্ষীরা জেলায় পাঁচ শতাধিক পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, শুধু সাতক্ষীরা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ এই ব্যতিক্রমী প্রতিমা দেখতে আসবেন বলে তাদের প্রত্যাশা।
ম্যাচের কাঠি ও রেশমি সুতার এই শিল্পসৃষ্টিই এবার সাতক্ষীরার শারদীয় দুর্গোৎসবে যোগ করেছে এক অনন্য মাত্রা।







