বাংলাদেশশিক্ষাঙ্গন

ডিমলায় গাছের বদলে ডাল প্রসঙ্গে রোপণ ৮৭ শিক্ষার্থীর ৫১ জনই অনুপস্থিত একদিকে

একদিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অনুপস্থিতি, অন্যদিকে বৃক্ষরোপণের বরাদ্দে গাছের চারার পরিবর্তে ডাল রোপণের অভিযোগ। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগা বড়বাড়ী বালিকা দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। ৮৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনই অনুপস্থিত। এমনকি নবম শ্রেণির ২০ শিক্ষার্থীর একজনও বিদ্যালয়ে আসেনি। শিক্ষার্থীদের অপেক্ষায় ওই শ্রেণিকক্ষে বসে ছিলেন সহকারী শিক্ষক খালেদুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম। বিদ্যালয়ের উপস্থিতির তথ্য অনুযায়ী, সপ্তম শ্রেণির ১৬ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ১৫ জন, দশম শ্রেণির ২৩ জনের মধ্যে ১৬ জন, ষষ্ঠ শ্রেণির ১৯ জনের মধ্যে ১৩ জন এবং অষ্টম শ্রেণির সাতজনের মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিল।

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে নবম শ্রেণির উপস্থিতি নিয়ে। ২০ শিক্ষার্থীর ওই শ্রেণিতে সেদিন উপস্থিত ছিল না একজনও। অথচ নির্ধারিত সময়ে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

একটি শ্রেণির সব শিক্ষার্থী একই দিনে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর বিদ্যালয়ের পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিয়মিত অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কি না, অনুপস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করা হয়েছে কি না এবং তাদের বিদ্যালয়ে ফেরাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এসব প্রশ্নেরও জবাব প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।

লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণের জন্য ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, গাছের চারার পরিবর্তে গাছের ডাল মাটিতে পুঁতে রোপণ করা হয়েছে।

বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আকমল হোসেন গাছের পরিবর্তে ডাল রোপণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকই ভালো বলতে পারবেন।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মো. সহিদার রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক ২৬ ও ২৭ আগস্ট বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক আকমল হোসেন বলেন, “সহকারী শিক্ষক সহিদার রহমানকে ছুটি প্রদান করা হয়নি।”

তবে প্রধান শিক্ষক মোছা. মাসুমা বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “ইতোমধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

একদিকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি, অন্যদিকে সরকারি বরাদ্দে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দুটি বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায় আসায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও বরাদ্দ ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র কতটা স্বচ্ছ, সেটিই দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button