বিতর্কিত ব্যক্তিদের যুবদলের কমিটিতে পদ দেওয়ার অভিযোগে ১৮ নেতার পদত্যাগ

লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। অর্থের বিনিময়ে কমিটি গঠন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদ দেওয়ার অভিযোগে আগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার এক মাসের মধ্যে ফের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটি নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে কমিটির ১৮ নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের শীর্ষ নেতাদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। এ ঘটনায় ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ফেসবুকে কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রফিক উল্যাকে আহ্বায়ক, মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব ও আবদুর রশিদসহ ১২ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা, যুগ্ম আহ্বায়ক এম আবদুল খালেক ও সদস্য সচিব আবদুল মুকিত সোহেল এ কমিটির অনুমোদন দেন।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর এতে অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়া, আওয়ামী লীগের কর্মীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রশিদ, মো. জাহাঙ্গীর, এমরান হোসেন, রাজু হোসেন, খুরশিদ আলম, দিদারুল আলম, আজিম উদ্দিন বাবলুসহ ১৮ নেতা পদত্যাগ করেছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই কুশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের ৩১ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে আবদুর রশিদকে আহ্বায়ক ও মাসুদুর রহমান মাসুদকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটি ঘোষণার পর যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও হারুনুর রশিদসহ ১৬ নেতা পদত্যাগ করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, অর্থের বিনিময়ে প্রবাসীদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যাশিত পদ দেওয়া হয়নি।
এমনকি কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব বিদেশ থেকে এসে অর্থের বিনিময়ে পদ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এসব বিতর্কের পর ২৮ জুলাই কেন্দ্র থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
যুবদলকর্মী ফারুক হোসেন ও ইমন জানায়, ‘আমাদের ইউনিয়নে যুবদল নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। যে বেশি টাকা দিতে পারে তাকেই পদ দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণা, পদত্যাগ, বিলুপ্তের পর আবার নাটকীয়ভাবে নতুন কমিটি হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বিভ্রান্তিতে আছি।’
চন্দ্রগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক এনায়েত উল্যা বলেন, ‘নতুন কমিটির যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের নিয়ে আমরা বসব। মূলত সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতাদের দ্বন্দ্বের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। টাকার বিনিময়ে কমিটি করার অভিযোগ সত্য নয়। ’
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিঙ্কন বলেন, ‘রাগ-ক্ষোভে কয়েকজন পদত্যাগ করতে পারেন, ১৮ জনের পদত্যাগ সত্য নয়। যাদেরকে দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে তারা দলের পরিক্ষিত।’







