
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এ নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব থাকবে না। দলীয়ভাবে প্রার্থীও দেওয়া হবে না। তবে ত্যাগী ও যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থন থাকবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মোকামতলা উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিন রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় দলের নবগঠিত নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়ে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শেষ করার জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এ পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়া-২ শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে মোকামতলা করা হয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা থেকেই তারা এ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন।
সরকারে গ্রিন সিগন্যাল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যালের’ প্রয়োজন নেই। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত হয়ে তফসিল ঘোষণা করতে চাইলে তারা তা করতে পারবে। কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেবে।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের পর্যায়ক্রমে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে বৈঠক করছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, নির্যাতন-হয়রানির শিকার হওয়া, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রামে যারা নির্যাতিত-নিপীড়িত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যাদের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, ভোটের মাঠে জিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে—এ ধরনের প্রার্থীদের দলীয়ভাবে সমর্থন দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা আছে।
তবে যাদের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা রয়েছে কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে পাওয়া যায়নি, তাদের সমর্থন না দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। আবার দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনের মাঠে অভিজ্ঞতা কম—এমন নেতাদের অন্যভাবে ‘অ্যাকোমোডেট’ করা হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার না করার নির্দেশনা দিয়েছেন। একদম অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, এ নির্বাচন করতে সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে।
বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আন্দোলন ও লং মার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলে সরকার তাতে সহযোগিতা করবে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, মঞ্চের পেছনে বিদ্যুতের ফ্যান চালিয়ে আপনি যদি বলেন যে বিদ্যুৎ নেই, দিতে হবে—এ বিষয়টি সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ৫ তারিখের পর বিরোধী দলের লং মার্চে ব্যবহৃত পরিবহনে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হবে। জ্বালানি সংকট নিয়ে আন্দোলনকারীদের এমন কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক অসুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান সংসদে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।







