বিনোদন

শাবানার মতে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ব্যর্থতার কারণ: সানি দেওলের মুসলিম চরিত্র

সানি দেওলের নতুন সিনেমা ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ ঘিরে প্রত্যাশা থাকলেও মুক্তির পর বক্স অফিসে তেমন সাড়া মেলেনি। সিনেমাটির এমন ফল নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। তার মতে, সানি দেওলকে মুসলিম চরিত্রে দর্শক মেনে নিতে না পারাও সিনেমাটির ব্যর্থতার একটি কারণ হতে পারে।

১৪ আগস্ট মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি এখন পর্যন্ত আয় করেছে ৫৩ কোটি রুপি। একই দিনে মুক্তি পাওয়া ইমরান হাশমির ‘আওয়ারাপন টু’ ইতোমধ্যে ২০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে। ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করা শাবানা সিনেমাটির ফল ও দর্শকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সানি দেওলের চরিত্র প্রসঙ্গে নিজের মত তুলে ধরেছেন।

জুমের সঙ্গে আলাপচারিতায় শাবানা বলেন, “প্রথমত, ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর বক্স অফিসে এমন বিপর্যয়ে আমি খুবই অবাক হয়েছি। কারণ, আমার চারপাশের অনেক মানুষ আমার কাছে এসে বলছেন, তারা সিনেমাটি পছন্দ করেছেন। তারা বলছেন, সিনেমাটির বার্তাও তাদের ভালো লেগেছে। অনেকেই মনে করেন, আজকের পরিবেশে মানবতার কথা বলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, মানুষ প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখতে যাননি। আর যারা গেছেন, তাদের অনেকেই বিভ্রান্ত প্রতিক্রিয়া নিয়ে হল থেকে বের হয়েছেন।”

সানি দেওলকে মুসলিম চরিত্রে মেনে নেওয়া নিয়ে শাবানা বলেন, “বিষয়টি হলো, আপনি সানি দেওলকে একজন মুসলিম হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। ‘কুলি’সহ আরো অনেক সিনেমায় অমিতাভ বচ্চন খুব স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে মুসলিম চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘দিওয়ার’ সিনেমায় তিনি ৭৮৬ ব্যবহার করেছিলেন এবং সেটিও দর্শক গ্রহণ করেছিলেন। তাহলে আমরা এটাকে কীভাবে বুঝব? এমন কি কোনো পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃতভাবে নেওয়া হচ্ছে? আমি বুঝতে পারছি না।”

শাবানার মতে, সিনেমাটি দেখার পরও অনেক দর্শক এর মূল বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, “মানুষ যেভাবে সিনেমাটির প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তাতে আমি অবাক। এমনকি যারা সিনেমাটি দেখেছেন, তাদের অনেকেই মনে করছেন সানি দেওল একজন পাকিস্তানির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি তা নন। বিষয়টি তাদের মাথায় কোনোভাবেই ঢুকছে না। এমনকি পাকিস্তানি অভিনেত্রী বুশরা আহমেদও সিনেমাটির ভাষা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খলনায়কের ব্যবহৃত পাঞ্জাবি উপভাষাটি সঠিক নয়। দুই ধর্মের মানুষই যদি সিনেমাটি পছন্দ না করেন, তাহলে এর অর্থ হলো, এটি এমন একটি বিষয়, যা একেবারে বিশুদ্ধ ও সুন্দর।”

ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গ নিয়ে বর্তমান সময়ে সিনেমা বানানোর পরিবেশ নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন শাবানা। তিনি বলেন, “সমস্যা হলো, এই পরিস্থিতিতে আপনি হিন্দুস্তান ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ স্পর্শ করতে পারবেন না, যা খুবই হতাশাজনক। এটি এমন একটি সিনেমা, যেটিকে রাজনৈতিকভাবে কোনোভাবেই ভুল বলা যায় না। এতে দোষ খুঁজে বের করার মতো কিছু নেই। সানি খুব ভালো অভিনয় করেছেন। বিষয়টি একইসঙ্গে খুবই বিস্ময়কর এবং পরস্পরবিরোধী—আমি যখন মানুষের সঙ্গে দেখা করি, তখন তারা সিনেমাটির এত প্রশংসা করেন কেন?”

এদিকে, ২০২৬ সালে যুদ্ধ ও সংঘাতের মানবিক দিক তুলে ধরা বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। ‘ইক্কিস’ ও ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। একই ধরনের মানবিক গল্প বলার চেষ্টা দেখা গেছে ‘বর্ডার টু’-তেও।

*ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button