মমতা ব্যানার্জির ভাতিজির আত্মহত্যা, নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরি হারানোর পর চরম

এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বীরভূম জেলায় নিজের বাড়ির দোতালায় উদ্ধার হয়েছে মমতা ব্যানার্জির ভাতিজির ঝুলন্ত দেহ। সময়টা ভালো যাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। নির্বাচনে পরাজয়ের পর দল ভেঙেছে, একের পর এক ছেড়ে গিয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।
আজ মঙ্গলবার সকালে বীরভূমের রামপুরহাট থানার কুসুম্বা গ্রামে নিজের বাড়ির দোতলায় ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার হয় মমতা ব্যানার্জির মামাতো ভাই নিহার মুখার্জীর মেয়ে বৃষ্টি মুখার্জির দেহ। রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামারবাড়ি। তার মামাতো ভাই নীহার মুখোপাধ্যায় রামপুরহাটের ১ নং ব্লকের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। তারই মেয়ে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়।
সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় কাপড়ের ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বেলা নয়টা নাগাদ তার বাড়ির দোতলার ঘর থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিজের জীবনে চরম পদক্ষেপ বেছে নেয়ার নিশ্চিত কারণ জানা যায়নি এখনও।প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অনিয়মভাবে চাকরি নেয়ার অভিযোগ উঠেছিল বৃষ্টি মুখার্জির বিরুদ্ধে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানোয় গ্রুপ সি-র চাকরিটি হারিয়েছিলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরুর পর স্ক্যানারে আসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাতিজি।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা প্রমাণ অনুযায়ী, গ্রুপ সি পরীক্ষার ওএমআর শিটে ৯০ শতাংশই গরমিল ছিল। অর্থাৎ তাতে কারচুপি করে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেয়া হয়েছে অনেককে। তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে দুর্নীতি করে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে উঠে আসে বৃষ্টির নাম। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার পর বৃষ্টি চাকরি হারান।
সম্প্রতি বৃষ্টির স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। পরিবারের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। তার চিকিৎসা চলছিল। নিজের ঘরে একাই থাকতেন। পরিবারের সঙ্গে বেশি কথা বলতেন না।
এদিন বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখার পর পুলিশে খবর দিলে রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে।





