জাতীয়

মবের অপসংস্কৃতি দমন ও সীমান্তে ড্রোন নজরদারি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার উদ্বোধন শেষে বললেন, মব বা দলবদ্ধভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনায় বিদ্যমান আইনেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য নতুন করে আলাদা কোনো আইন করার প্রয়োজন নেই। আমরা খুব সজাগ আছি, সচেতন আছি। বাংলাদেশে মবের যে অপসংস্কৃতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাকে আমরা শক্তভাবে মোকাবিলা করব; ইনশাআল্লাহ।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইনিব্যবস্থা, আইনের কাঠামো আমরা খুব শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলছি। পরে জনবল এবং প্রযুক্তিগত সমস্ত সহায়তা আমাদের বাহিনীকে দেওয়া হবে। সমস্ত অধিদপ্তরকে দেওয়া হবে। আশা করি এগুলো নিয়ন্ত্রণে আসবে। অত্যাধুনিক হাতিয়ারের ব্যবস্থা আমরা এখানে রেখেছি, তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য চোরাচালান, অপব্যবহার, ব্যবসায়ী ইত্যাদির ক্ষেত্রে অপরাধ চিহ্নিত করে ক্ষেত্রমতে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

সীমান্তে নজরদারি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা সম্ভব নয় অথবা খুবই কঠিন, সেখানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট মিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে সীমান্তের অপর পারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান-মাদক ও অস্ত্র পাচারের মতো কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

বিজিবির জন্য নিজস্ব প্রযুক্তিতে ড্রোন তৈরি ও অ্যাসেম্বল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সেটা আমাদের জন্য একটা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ড্রোন ও ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষ জনবল তৈরির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

দুর্গম সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও অপরাধ প্রবনতা নিয়ন্ত্রণে ড্রোন দিয়ে কড়া নজরদারি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন, সেজন্য এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইট-মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানবপাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হবে।

‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজিবির এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ একটি অনন্য ঘটনা। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button