ঘুষ.সাইট বানিয়ে আলোড়ন, ১৭ বছরের শাহেদের পাশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

ঘুষের অভিযোগ জানাতে ওয়েবসাইট তৈরি করে আলোচনায় আসা ১৭ বছরের কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদের খোঁজ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পাশাপাশি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা তিনটার দিকে নিজ কার্যালয়ে শাহেদকে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
সেখানে শাহেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রয়াত শিক্ষিকা মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে পদে পদে ঘুষ দাবির বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গত ২১ আগস্ট ঘুষ.সাইট নামের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে শাহেদ শরীফ। সেখানে ঘুষের অভিযোগ জানাতে থাকেন অসংখ্য মানুষ। সোমবার ঢাকা মেইলে এ খবর প্রকাশের পর দুপুরেই শাহেদের বাবাকে ডেকে পেনশনের কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং অনিয়মে জড়িত দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শাহেদের ঘুষ.সাইটে মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৬৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যেখানে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ কোটি ২ লাখ টাকা।
এদিকে ঘুষ.সাইট সাড়া ফেলায় উচ্ছ্বসিত শাহেদ শরীফ আহমেদ। সিটি প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, ‘মূলত ঘুষ.সাইটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সরকার কীভাবে এ উদ্যোগকে সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার মূল বার্তা হলো-সরকারের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা পেলে উপকৃত হবেন এবং এ জন্য কৃতজ্ঞ থাকবেন।’
শাহেদ শরীফের মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পাওনা পেতে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। তিন সদস্যের এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।সোমবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের এক আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশীষ কুমার তরফদার ও মো. সাদ্দাম হোসেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ঘুষ.সাইট নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে কমিটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মঙ্গলবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
আগামী বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। তদন্ত কমিটির নোটিশে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আজমতপুর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমেনা খাতুনের মৃত্যুর পর তার স্বামী মো. শরীফুল ইসলাম কেন যৌথ বিমা, কল্যাণ ভাতা ও দাফন-কাফনের অনুদান পাননি এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়নি এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।





