প্রধানমন্ত্রী: স্বৈরাচারের সময়ে বাপেক্স পঙ্গু ছিল, গ্যাস উৎপাদনে মহাপরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বললেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না হওয়া এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের তৃতীয় দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে চলমান সাতটি কূপের খনন শেষ হলে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট) ও বিডিংয়ের অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।





