বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বললেন, চিকিৎসক, নার্সসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। একজন চিকিৎসক কর্মস্থলে নিরাপদ ও নির্ভর বোধ না করলে তার পক্ষে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দেওয়া কঠিন। একজন রোগীর মৃত্যু কখনোই কাম্য নয় এবং কোনো চিকিৎসকও রোগীর অমঙ্গল কামনা করেন না। বরং নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে প্রতিটি রোগীর জীবন রক্ষায় চিকিৎসকরা নিরন্তর চেষ্টা করেন।
আজ বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুঃখজনকভাবে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নিপীড়ন ও হামলার ঘটনা ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় কয়েকজন চিকিৎসক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।তিনি বলেন, রোগীর মৃত্যুতে স্বজনদের শোক ও বেদনা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই শোক কখনোই চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার বৈধতা দিতে পারে না। রোগীর মৃত্যু কিংবা চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএমডিসিসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রয়েছে। অভিযোগের নিয়মতান্ত্রিক তদন্ত না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিএনপির এই স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো একটি মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ পেশায় কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর আঘাত নয়; এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারকেও হুমকির মুখে ফেলে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসক নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত বা সংঘবদ্ধ অপতৎপরতা রয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অস্থিতিশীল হলে কারা লাভবান হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না; চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা দেওয়া মানে শুধু একজন চিকিৎসককে নিরাপত্তা দেওয়া নয়; এটি দেশের প্রতিটি মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারকে সুরক্ষিত করা।
তিনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
