রাজনীতি

আসিফের ২৪০০ কোটির প্রকল্পে নিজ উপজেলায় ৪৫৩ কোটি: স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ

কুমিল্লার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগে প্রশ্ন উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজ জেলা কুমিল্লার জন্য নেওয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছিল তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য- ৪৫৩ কোটি টাকা। এ নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও তুলেছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

এলজিইডির ওই প্রকল্পে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মোট দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়।

প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয় মুরাদনগরের জন্য। এ উপজেলার জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৫৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয় দেবীদ্বারের জন্য ৩৩৮ কোটি টাকা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কুমিল্লার জন্য শুরুতে দুই হাজার ৯৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। পরে ব্যয় কমিয়ে দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা করা হয়।

একই সময়ে সাতক্ষীরার জন্যও দুই হাজার ১৯৮ কোটি টাকার পৃথক প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথা উঠে আসে।

আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা থাকাকালে তার নিজ জেলার জন্য নেওয়া প্রকল্পে নিজ উপজেলা মুরাদনগরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ‘স্বার্থের সংঘাতের’ প্রশ্ন তুলেছিলেন।

প্রকল্পটির বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের মধ্যে মূল প্রশ্ন ছিল- একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি সরকারের উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় তার নিজ জেলার উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা কতটা যৌক্তিক এবং এতে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে কি-না।

অভিযোগ খতিয়ে দেখবে দুদক

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে কুমিল্লার দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ দুদকে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগ অনুসন্ধানে একটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোই যাচাইয়ের পরে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button