চট্টগ্রাম

আখাউড়া রেলওয়ে: সকালে বিচ্ছিন্ন, রাতে ফের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও কিছু সংযোগ লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার সকালে পরিচালিত একটি অভিযানে প্রায় ৩০টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও রাতে কয়েকটি সংযোগ পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মাহবুবুল আলম জানান, মঙ্গলবারের অভিযানে প্রায় ৩০টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে জংশন এলাকার সব স্থানে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।

রেলওয়ে জংশন এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সংখ্যা আরও বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন করা কয়েকটি সংযোগের মধ্যেই অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে জংশন এলাকার সব বাসা, কোয়ার্টার ও দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগের বৈধতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন এলাকায় তিন শতাধিক বাসা ও কোয়ার্টার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাসায় বর্তমানে রেলওয়ের কোনো কর্মচারী বসবাস করেন না বলে জানা গেছে। এসব বাসায় বহিরাগতরা বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের অনেকেই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

শুধু রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টার নয়, জংশন এলাকার বেশ কিছু দোকানেও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মিত অভিযান ও তদারকির অভাবেই এসব অবৈধ সংযোগের বিস্তার ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে। তাদের সহযোগিতা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব নয় বলে দাবি অভিযোগকারীদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে রেলওয়ে কলোনি ঘুরে দেখা যায়, শতাধিক বাসা ও কয়েকটি দোকানে বিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে। এসব স্থানে লাইট, ফ্যানের পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ, ইস্ত্রি ও বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কলোনির বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ে কর্মচারী বলেন, ‘অবৈধ সংযোগের কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এতে রেলওয়েকে বেশি বিল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এসব অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িত।’

অভিযোগের বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘৩০টির মতো অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে কিছু এলাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। আবার কিছু বাসায় গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে বিচ্ছিন্ন অভিযান চালানোর পাশাপাশি রেলওয়ে জংশনের প্রতিটি বাসা, কোয়ার্টার ও দোকানের সংযোগ যাচাই করে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের তালিকা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button