খেলা

ইমরান খানের সঙ্গে বর্বর আচরণ বর্বরতা, বললেন বাংলাদেশি বন্ধু আশরাফুল হক

ইমরানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, সেটিকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার ও বিসিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল হক।

ইমরান খানকে নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে সৈয়দ আশরাফুল হক বলেন, ‘ইমরান খান সারা বিশ্বে অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যক্তি। পাকিস্তানের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানে যে দুর্নীতি রয়েছে, তা থেকে দেশকে মুক্ত করা। জনগণের কাছ থেকে দেশ পরিচালনার জন্য তার স্পষ্ট ম্যান্ডেট ছিল। তাকে অমানবিক পরিবেশে কারাগারে রাখা বিশ্বের কেউ চায় না, কোনো সভ্য জাতিও চাইবে না। মানবাধিকারের দৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং কতটা অসাংবিধানিক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইমরান খানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা বর্বরতার শামিল।’

ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও বিবৃতিতে তুলে ধরেছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আমি ইমরান খানকে চিনি। তখন সে ঢাকায় লাহোর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে এসেছিল। সে ছিল উজ্জ্বল এক তরুণ। তখন সে খুব জোরে বোলিং করত, তবে আমার মনে আছে, শেষ পর্যন্ত সে আমাদের বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি করেছিল। সেই ম্যাচেই আমাদের বন্ধুত্ব হয়েছিল এবং এর পর থেকে আমরা সব সময় যোগাযোগ রেখেছি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সময়ও তাঁদের যোগাযোগ ছিল জানিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘স্বাধীনতার পর আমরা দুজন যখন ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করতাম, তখন ইমরান ও আমার দেখা হতো। আমি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিবল কলেজে তাকে দেখতে যেতাম। সেখানে কখনো কখনো সে হকিও খেলত। পাকিস্তান যখন টেস্ট সিরিজ খেলতে ভারতে যেত, তখন সেখানেও আমি তার সঙ্গে দেখা করেছি। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের দেখা হয়েছে এবং সে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরও আমাদের বন্ধুত্ব অব্যাহত ছিল।’
ইমরানের রাজনৈতিক জীবনে নিরাপত্তা নিয়ে নিজের শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, পরবর্তী বছরগুলোতে যখনই তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে আমি তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত থাকতাম। কিন্তু সে আল্লাহভীরু মানুষ হওয়ায় আমাকে বলত, অ্যাশ, আমার যদি এভাবে মারা যাওয়ার ভাগ্য লেখা থাকে, তাহলে আমি এভাবেই মারা যাব। তুমি আমাকে বাঁচাতে পারবে না, কেউই আমাকে বাঁচাতে পারবে না। এটা আল্লাহর ইচ্ছা। তাই আমার নামে যদি একটি গুলি লেখা থাকে, সেটি আমার শরীর ভেদ করবেই। তাহলে এটা নিয়ে আমি কেন চিন্তা করব এবং জীবনের নীতিগুলো ভুলে যাব?

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের নৃশংসতার জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানোর বিষয়টিও স্মরণ করেছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, পাকিস্তানের প্রথম রাজনীতিক হিসেবে সে জোর দিয়ে বলেছিল, ১৯৭১ সালে সংঘটিত সব নৃশংসতার জন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ইমরানের পরিবারের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা উল্লেখ করে আশরাফুল বলেন, ‘আমি তার পরিবারের সঙ্গেও অনেকবার দেখা করেছি এবং স্নেহের সঙ্গে মনে আছে, ১৯৯০-এর দশকে আমরা সবাই ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকায় ঘুরতে গিয়েছিলাম। ইমরান চাইলে পারিবারিক জীবন যাপন করতে পারত, কিন্তু সে তার নীতির কারণে সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিল।’

ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, সেটিও উল্লেখ করেছেন আশরাফুল। তিনি বলেন, ‘সে পাকিস্তানে ভালো কিছু করতে চেয়েছিল। তার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা অমানবিক। সারা বিশ্বে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, তা দেখুন। সবাই বলছে, এটি সঠিক কাজ নয়। আমি মনে করি, অন্তত তার জন্য কিছুটা স্বস্তি নিশ্চিত করতে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করা উচিত।’

ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি টানা তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবাস করছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ও তাঁকে নির্জন কারাবাসে রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button