জাতীয়বাংলাদেশ

তারেক রহমানও কি দেশে ফিরলে বিশেষ সুবিধা পাবেন?

বাংলাদেশের হাসপাতালে শারীরিকভাবে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়ে অবিলম্বে তা কার্যকরের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে সরকার ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণা করার পরে দুপুরের পরপর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ সদস্যরা কাজ করতে শুরু করেছে।

এসএসএফ অধ্যাদেশে ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’কে শারীরিক নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি বলা আছে। ওই একই অধ্যাদেশে ভিভিআইপি মানে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান ছাড়াও বিদেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান কিংবা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষিত অন্য যেকোনো ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে বলে আইনজীবীরা বলছেন।

ফলে সরকার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষণা করায় তিনি এসএসএফ সুবিধা পাবেন।

এখন প্রশ্ন হলো, খালেদা জিয়া ভিভিআইপি হিসেবে এসএসএফ সুবিধা পেলে তার আওতায় তারেক রহমানও আসবেন কি-না। অর্থাৎ দেশে ফিরলে তিনিও এসএসএফ সুবিধা পাবেন কি-না।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর মঙ্গলবার সকালে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, মি. রহমান দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে এসএসএফ সুবিধা দেয়ার একটি প্রস্তাব সরকারকে দেয়ার পরিকল্পনা তাদের আছে।

যদিও বিএনপিরই একজন নেতা বলেছেন, রাষ্ট্র বা সরকার ঘোষিত ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা থাকবে সেটি তার পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রযোজ্য হবার কথা বলে তারা মনে করেন।

“ফলে তারেক রহমান এমনিতেই ওই সুবিধা পাওয়ার কথা,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। তবে তিনি তার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

এর আগে মি. রহমান তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার দেশে ফেরার বিষয়টিতে তার একক নিয়ন্ত্রণ নেই জানানোর পর নিরাপত্তা বিষয়টিকেই এর প্রধান কারণ বলে অনেকে ধারণা করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে তিন ধরনের বিশেষ ব্যক্তি আছেন- ভিভিআইপি, ভিআইপি ও সিআইপি। এর মধ্যে ভিভিআইপি ও ভিআইপি নির্ধারণ করা হয় রাষ্ট্রীয় বিবেচনায় আর সিআইপি নির্বাচন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

দেশের প্রধান দুই ভিভিআইপি হলেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। তাদের নিরাপত্তায় বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট আর স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ কাজ করে থাকে। এছাড়া রাষ্ট্র কাউকে ভিআইপি ঘোষণা করলে তার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা দেবে এসএসএফ।

এখন খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারির পর ভিভিআইপিদের নিরাপত্তায় জড়িত সংস্থাগুলো তার জন্যও কাজ শুরু করবে। ফলে তার এসএসএফ সুবিধা পাওয়া এখন প্রায় নিশ্চিত।

জেনারেল এরশাদের শাসনামলে রাষ্ট্রপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। পরে ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতিতে ফেরার পর প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (পিএসএফ) সংশোধন করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স এসএসএফ গঠন করা হয়েছিলো।

এসএসএফকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার বা নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে গুলি চালানোর মতো ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

যদিও ফেরি আটকে রাখায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার পর একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৩১শে জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বলেছিলো যে ‘শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপি হিসেবে গণ্য, আর কেউ নন।’

অবশ্য আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অন্য কোনো ব্যক্তিকে ‘ভিভিআইপি’ ঘোষণার এখতিয়ার সরকারের আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button