কক্সবাজারচট্টগ্রামজাতীয়

ইউএনওকে গ্রেপ্তারের হুমকি পর্যটকের

কক্সবাজারে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজের যাত্রাবিলম্বকে কেন্দ্র করে এক পর্যটক নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে জেলার নুনিয়াছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যায় ইব্রাহিম নামের ওই পর্যটক ইউএনও তানজিলা তাসনিমকে গ্রেপ্তারের আদেশ দিচ্ছেন পুলিশকে। যা সমালোচনা জন্ম দিয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়—একদল পর্যটক জাহাজের সূচি পরিবর্তন নিয়ে জাহাজ কর্তৃপক্ষ ও ইউএনওর সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ইব্রাহিম ইউএনওকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক পরিবহন করা যায়। যাত্রী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য নিয়ম তদারকির অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে দায়িত্ব পালন করছিল।

তিনি জানান, কিছু পর্যটক অভিযোগ করেন তাদের টিকিটে উল্লেখিত সময়ের আগেই জাহাজ চলে গেছে। এ বিষয়ে তিনি কারণ জানতে চাইলে ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি আকস্মিকভাবে তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। তিনি নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা হলেও কারও গ্রেপ্তার নির্দেশ দেওয়ার আইনগত ক্ষমতা নেই, বলেন ইউএনও।

হট্টগোলের পর ইব্রাহিম নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, আমি ইউএনও স্যারকে চিনতে পারিনি। এজন্য দুঃখিত।

তিনি জানান, তাদের টিকিটে জাহাজ ছাড়ার সময় ছিল সকাল ৭টা, কিন্তু ঘাটে এসে জানতে পারেন জাহাজটি আগেই ছেড়ে গেছে। এ দিকে সী-ক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নদীর নাব্যতা, জোয়ার-ভাটা ও ঘাটের পরিস্থিতির কারণে সময়সূচি হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারে। তার দাবি, বে-ক্রুজ নামের জাহাজটি নাব্যতা সংকটের কারণে বিকল্প ঘাট দিয়ে যাত্রা করেছে। পর্যটকরা মনে করেছেন এটি আগেই ছেড়ে গেছে।

পরে কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজে করে ইব্রাহিম ও তার সঙ্গে থাকা ১১ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা দ্বীপে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় দ্বীপ ভ্রমণে সরকার নির্ধারিত ১২টি নির্দেশনা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button