পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধির দাবিতে কমলনগরে বাজার কমিটির সংবাদ সম্মেলন

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স বাজারে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বাজার পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে বাজারে ঘর দখল, চাঁদাবাজি ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে বাজার পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান পাটওয়ারি ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাবসায়ীরা।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে একের পর এক চুরির ঘটনা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত চুরির সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং বাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হাসান মাহমুদ টিটু,শাহাবউদ্দিন, প্রচার সম্পাদক ইসমাইল হোসেন দিপ্তি, সদস্য মহিন উদ্দিনসহ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ী।
আরো উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত শিরোনাম ফ্যাশনের মালিক মো. শাহিন, কমান্ডার স্টোরের তুহিন এবং ইজি ফ্যাশনের মালিক মো. নুরদ্দিন।
আবদুর রহমান পাটওয়ারী তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী পক্ষ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করেছে। তারা ঘর দখল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে। আমরা কঠোরভাবে এসব প্রতিহত করায় তারা এখন ভিন্ন কৌশলে ষড়যন্ত্র করছে। বর্তমান চুরি ও বিশৃঙ্খলাও সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, বাজারে তিনজন নিরাপত্তা প্রহরী দায়িত্বে রয়েছেন। ৫ আগস্টের আগে এই ব্যবস্থায় বাজারে কোনো চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এরপর হঠাৎ করে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়া রহস্যজনক।
বাজারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণসহ সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটি নিয়মিত কাজ করছে। তবে উন্নয়নমূলক এসব কর্মকাণ্ডে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইজি ফ্যাশনের মালিক মো. নুরদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে আমার দোকানে ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটে। নগদ ৬ লাখ টাকাসহ মালামাল লুট হয়ে যায়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই গত শনিবার রাতে আবারো আমার দোকানে চুরি হয়েছে। আমার কাছে চোরদের ভিডিও ফুটেজসহ পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, যা প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত পুলিশের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।
তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং বাজারে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.ফরিদুল আলমকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সহকারী পুলিশ সুপার(রামগতি সার্কেল) মো.শামসুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে আমার ঊর্ধ্বতন অফিসারের অনুমতি লাগবে বলে এড়িয়ে যান।







