যশোর

যশোরে বিমান বাহিনীর বর্ণিল কুচকাওয়াজ,

মোঃ জুম্মান হোসেনঃ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণিল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ (শ্রীকান্তনী)-২০২৬’। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) যশোরের ঐতিহ্যবাহী বিমান বাহিনী একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে এই বিদায়ী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে ৫ জন নারী কর্মকর্তাসহ মোট ৪১ জন অফিসার ক্যাডেট সফলভাবে দেশের আকাশসীমা রক্ষার গৌরবময় কমিশন লাভ করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি। পরে তিনি কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখা নবীন গ্র্যাজুয়েট অফিসারদের মাঝে পদক ও ফ্লাইং ব্যাজ বিতরণ করেন।

এবারের কুচকাওয়াজে ৮২তম বাফা কোর্সের (82 BFA Course) সামগ্রিক প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে সবার নজর কেড়েছেন অফিসার ক্যাডেট তাহসিন আহমেদ কোরাইশী। অনন্য সাধারণ এই সফলতার জন্য তিনি লাভ করেছেন বিমান বাহিনীর সর্বোচ্চ সম্মানজনক পদক “সোর্ড অব অনার”। শুধু তাই নয়, একাডেমি সিনিয়র আন্ডার অফিসার হিসেবে তিনিই আজকের এই গৌরবময় আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট দানিয়াত রশীদ উদ্দীন “বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি”, জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মোহাম্মদ আনান চৌধুরী “কমান্ড্যান্টস ট্রফি” এবং গ্রাউন্ড বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য একই ক্যাডেট “বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি” লাভ করেন।

নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “ can মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ একটি সুসংগঠিত, আধুনিক ও পেশাদার বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশের আকাশসীমা সার্বভৌম রাখা, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার অভিযান এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সকল কার্যক্রমে আমাদের বিমান বাহিনী বরাবরের মতোই অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত প্রশিক্ষণ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সততা, কঠোর পেশাদারিত্ব এবং বুকভরা দেশপ্রেমের সঙ্গে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্যারেড গ্রাউন্ডের আকাশে শুরু হয় বিমান বাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমানের চোখ ধাঁধানো ফ্লাইপাস্ট। এরপর একে একে প্রদর্শিত হয় রোমাঞ্চকর আকাশীয় অ্যারোবেটিক ডিসপ্লে এবং সামরিক হেলিকপ্টার থেকে সুদক্ষ প্যারাট্রুপারদের দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং। নীল আকাশে উড়ন্ত বিমানগুলোর এই বর্ণিল কসরত উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের গর্বিত অভিভাবকেরা উপস্থিত থেকে এই আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button