বাংলাদেশ

হাতুড়ির টুংটাং শব্দে জমে উঠেছে গাজীপুরের কামারপল্লী

আর মাত্র কয়েকদিন পরই পবিত্র ঈদুল আযহা। কোরবানির প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরীর কামারপল্লীগুলোতে এখন চলছে কর্মচাঞ্চল্য। হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। লোহা আগুনে পুড়িয়ে লাল করে দিন-রাত ধারালো দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।

শুক্রবার (২২ মে) গাজীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ মহানগরীর কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরের কামারপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র গরম উপেক্ষা করে কারিগররা একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। কারও শরীর ঘামে ভিজে একাকার। কাজের চাপে অনেকের খাওয়ারও ফুরসত নেই।

ঈদকে সামনে রেখে শুধু স্থায়ী কারিগরই নয়, অনেক মৌসুমি কামারও অস্থায়ী দোকান বসিয়ে পুরনো দা-ছুরি শান দেওয়া ও নতুন সরঞ্জাম তৈরির কাজে নেমেছেন।

এসময় কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বটি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আকৃতি ও লোহার মান অনুযায়ী দা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়। ছুরির দাম ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। চাপাতি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়, আর সাধারণ লোহার চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়।

এছাড়াও গরু জবাইয়ের বড় ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। ধার দেওয়ার স্টিল প্রতিটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

কামার সঞ্জয় সরকার বলেন, ৩৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। দিন যত গড়াবে ব্যস্ততাও তত বাড়বে। এখন খুব সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই ব্যস্ততা চলবে।

আরেক কারিগর নন্দলাল বর্মন বলেন, যত কাজ করতে পারি, ততই আয়। ভাত খাওয়ার সময়ও পাই না। ঈদের তিন দিন আগে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে।

কামার সুশান্ত কর্মকার বলেন, ছোট বেলা থেকেই এই কাজ করছি। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। কোরবানির ঈদ এলেই কাজ বাড়ে। তাই এই সময়টাতে একটু বেশি আয়ের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করি।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ মৌসুমকে কেন্দ্র করে কামাররা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। তাদের দাবি, অন্য সময়ের তুলনায় প্রতিটি সরঞ্জামে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button