বগুড়া

গাবতলীর ক্লুলেস নারী হত্যা রহস্য উদঘাটন

বিকাশ স্বর্ণকার,

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মমিনহাটায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস গলা কাটা হিন্দু নারী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার সহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।সোমবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ (পিপিএম)।পুলিশ সুপার জানান,গত (২০শে মে) বুধবার দিবাগত রাতে গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের মমিনহাটা গ্রামের বিধান রায়ের স্ত্রী রিতা রানী মজুমদারকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।তদন্তের একপর্যায়ে ডিবির চৌকস টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে প্রথমে আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শাওন মিয়া নামের অপর এক আসামিকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।তিনি আরও জানান,গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন পেশায় ছিচকে চোর এবং শাওন মিয়া ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা গোপনে জানতে পারে, ভুক্তভোগী পরিবারের জমি বিক্রির প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বাসায় রাখা আছে এবং অসুস্থ স্বামীর কারণে পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক কার্যক্রম মূলত রিতা রানী পরিচালনা করতেন।লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে আনোয়ার হোসেন শাওনকে সঙ্গে নিয়ে সৈয়দ আহম্মদ কলেজ এলাকা থেকে দুটি হাসুয়া কিনে বাড়ির নিকটবর্তী একটি বিলে লুকিয়ে রাখে। পরে ঘটনার রাতে তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়ির গোয়ালঘরে অবস্থান নেয়।

রাতের খাবার শেষে স্বামী-স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়ার পর এক পর্যায়ে রিতা রানী গরু দেখতে বাইরে বের হলে অভিযুক্তদের দেখে ফেলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিচয় ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় আনোয়ার ও শাওন হাসুয়া দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ২টি হাসুয়া উদ্ধার করেছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।উল্লেখ্য রিতা রানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সফল অভিযানে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেপ্তারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন,

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে জেলা পুলিশ ও ডিবি সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করেছে। অপরাধী যেই হোক,তাকে আইনের আওতায় আনতে বগুড়া জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button