ঢাকা

মির্জাপুরে সার মজুতকারীকে ‘ক্ষমা’ কৃষি কর্মকর্তার: হাদিস নাকি আইনের ফাঁক?

গেল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের বারিন্দা বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সার মজুতের সংবাদ পেয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে তা জব্দ না করেই কর্মকর্তারা ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ নিয়মিত মামলা করার নির্দেশনা দিয়ে থাকলেও তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যে ঘটনাটিতে নতুন মোড় ও নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বারিন্দা বাজারের অসাধু ব্যবসায়ী কোহিনূর মিয়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে তাঁর গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত করেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক আজিজ। অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে অভিযানের বিষয়টি আগেই টের পেয়ে চতুর দোকানি কোহিনূর মিয়া গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েন। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালত পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই উপজেলা কৃষি অফিসের দুই কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ওই গোডাউনে শতাধিক বস্তা সার মজুত দেখতে পেয়েছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালাবদ্ধ গোডাউন দেখে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়; নিয়মিত মামলা বা আইনি ব্যবস্থার বদলে অভিযুক্তকে ছাড় দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের বক্তব্যে।

পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের কাছে ভিডিও বক্তব্য চাইতে গেলে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

একজন অবৈধ মজুতদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে ক্ষমার অজুহাতে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পুরো উপজেলায় তীব্র আলোড়ন ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই বিভাগের আরও সংবাদ পড়ুন

Back to top button