আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বললেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দুই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। বহু মরদেহ গায়েব করেছে। আমরা মনে করি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত দিনে আমরা যারা গুম ছিলাম, প্রতি মুহূর্তে আমাদের মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময়ে তাদের স্বজনরা কীভাবে সময় কাটিয়েছে, সেটি তারা ছাড়া কেউ বুঝবেন না।
গুমের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সুমনের মায়ের মানসিক অবস্থা কেউ বুঝবেন না। তার নিজের স্ত্রী-সন্তানদের কী অবস্থা হয়েছিল, সেটিও অন্য কেউ বোঝার কথা নয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ৭০৯ জন গুমের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫ জন ফিরে এসেছেন। আর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুমের বিষয়ে ১ হাজার ৮৫০টি আবেদন পড়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ ধরনের গুম-খুনের কথা ছিল না।’ ব্রিগেডিয়ার আযমীর মতো অনেকে ফিরে এলেও পরিবারের কাউকে পাননি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ মারা গেছেন। তবে তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কারণ বহু মরদেহ গায়েব করা হয়েছে এবং পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুমের শিকার হওয়া মানুষের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।







