কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাজার নামকরণ বিরোধে রণক্ষেত্র, দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ৩০

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চার ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে অবস্থিত একটি বাজারের নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বাজারটির নাম ‘আকবরনগর-মিরারচর’ করা হয়।
সম্প্রতি আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের গ্রামের নামে বাজারটির নামকরণের দাবি তোলেন। অন্যদিকে মিরারচর গ্রামের বাসিন্দারা ‘মিরারচর-আকবরনগর’ নামে নামকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই মধ্যে গত ২৭ জুলাই বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দিনভর সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় মিরারচর গ্রামের খাইলসা বাড়ির আসাদ মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া (৩৫) ও মোল্লা বাড়ির মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে হিরণ মিয়া (৩০) নিহত হন।
ওই ঘটনার পরদিন মিরারচর গ্রামের বাসিন্দারা আকবরনগর গ্রামের শতাধিক বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভৈরব থানায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের সংঘর্ষের পর দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও কিছুদিন পরিস্থিতি শান্ত ছিল। রোববার দুপুরে ফের দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ সময় কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিটন বলেন, ‘বাজারের নাম নিয়ে এর আগেও দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে দুজনের প্রাণ গেছে। আজ আবারও দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।’







