আইফোন ১৮: ফাইভজি মডেমে গতি ও নিরাপত্তার নতুন যুগ

অ্যাপল ইন কর্পোরেটেড তাদের আসন্ন আইফোন ১৮ সিরিজে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন প্রজন্মের ৫জি মডেম ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে গ্রাহকরা কেবল দ্রুতগতির ইন্টারনেটই পাবেন না, বরং তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাও আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। বর্তমানে আইফোনে কোয়ালকমের মডেম ব্যবহার করা হলেও, ভবিষ্যতে নিজস্ব সি-টু মডেম ব্যবহার করে এই নির্ভরতা কমাতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন এই মডেমটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ীভাবে ব্যাটারি খরচ করে দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করতে সক্ষম। এছাড়া এতে যুক্ত উন্নত নিরাপত্তা প্রোটোকল ব্যবহারকারীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা ‘লোকেশন ট্র্যাকিং’ সীমিত করতে পারবে। অ্যাপলের নতুন ‘লিমিট প্রিসাইজ লোকেশন’ ফিচারের কল্যাণে মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকের একদম সঠিক ঠিকানা জানতে পারবে না, তারা কেবল একটি আনুমানিক অবস্থান দেখতে পাবে।
তবে ম্যাপ, নেভিগেশন বা জরুরি কলের ক্ষেত্রে সঠিক অবস্থানের তথ্য আগের মতোই নির্ভুলভাবে কাজ করবে। এই নিজস্ব মডেমের কারণে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’-এর মতো অন-ডিভাইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরো কার্যকর হবে। এতে ক্লাউড বা ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ডিভাইসেই বেশি সুরক্ষিত থাকবে। এছাড়া ভয়েস কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী এনক্রিপশন যুক্ত করা হচ্ছে, যা সাইবার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।
থার্ড-পার্টি অ্যাপ বা টেলিকম অপারেটররা যেন সহজে ব্রাউজিং ডেটা সংগ্রহ করতে না পারে, সে বিষয়টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উন্নত ফিচারগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও থাইল্যান্ডসহ কিছু নির্দিষ্ট দেশের নেটওয়ার্কে চালু রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতে সরাসরি স্যাটেলাইট-টু-ফোন সেবা চালুর ক্ষেত্রে ছোট অ্যান্টেনা ও সিগন্যাল দুর্বলতার মতো কিছু প্রযুক্তিগত বাধা রয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাপলের এই নতুন মডেমটি বিশেষ করে আইফোন ১৮ প্রো এবং ভবিষ্যতের ভাঁজ করা বা ফোল্ডেবল আইফোনে দেখা যেতে পারে, যেখানে অতি-দ্রুত ইন্টারনেটের জন্য মিলিমিটার ওয়েভসাপোর্টও থাকবে।





